Marks by sin - 8 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 8

Featured Books
Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 8

মার্কস বাই সিন-৮

"ইয়েস স্যার। ওকে স্যার। নিশ্চয় স্যার... নিশ্চয়... বাকিটা সামলে নিচ্ছি। থ্যাঙ্কু স্যার।"

টেলিফোনটা যথাস্থানে রেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আহান। সকাল থেকে একটার পর একটা ফোন এসে চলেছে। এবার হাঁফিয়ে উঠেছে সে। এখন মনে হচ্ছে উপর মহলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার থেকে এবং মিডিয়াদের অবান্তর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার থেকে— ক্রিমিনাল হ্যান্ডেল করা অনেক সহজ। 

এই দুই সপ্তাহে ধরে পরপর একটার পর একটা রেইডগুলো সফল হ‌ওয়ার কারণে আহানের মনটা আজ সত্যিই বেশ ফুরফুরে ছিল। তবে মিডিয়া যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ওর ওপর, একটার পর একটা ফোন, প্রশ্ন, ইন্টারভিউ—সব মিলিয়ে মাথার ভেতর যেন গরম আগুন হয়ে গেছে তার। তার ওপরে উপর মহলে কিছু লোক বসে আছেন, যারা অন্যের সফলতা একদম দেখতে পারেন না, তাদের কাছ থেকে ধেয়ে আসা কিছু প্রশ্নে আহানের মাথা বিগড়ে দিয়েছে।

এই সব কথা চিন্তা করতে করতে দেয়ালের ঘড়ির দিকে তাকায় আহান। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। বাড়ি থেকে আজ তাড়াতাড়ি ফেরার আদেশ আছে—ব‌উদি বারবার বলে দিয়েছে আজ যেন দেরি না হয়। বেশি দেরি হলে আহানের শাস্তি স্বরুপ তার একমাত্র ভাইপো আহানের সাথে পুরো এক সপ্তাহ কথা বলবে না। 

ছোটো ছেলেটার কথা মনে পড়তে আহানের সারাদিনে ক্লান্তি মুহুর্তে দূর হয়ে যায়। মনটা আবার আনন্দে ভরে ওঠে। হালকা হেসে নিজের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে। গম্ভীর স্বরে ডেকে ওঠে “ঘোষ বাবু!”

ঘোষ ছুটে এসে একটা স্যালুট ঠুকে দাঁড়ায়, “আপনি ডাকছিলেন, স্যার?”

“হ্যাঁ। আমি এখন বেরোচ্ছি। আজ দাদার‌ বাড়ি থেকে অর্ডার এসেছে, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।”

“ঠিক আছে, স্যার। আপনি আসুন। কিছু দরকার হলে আমি কল করে দেব আপনাকে।"

"আচ্ছা।" এই বলে আহান বেরোতে গেলেও দাঁড়িয়ে যায়। ঘুরে এসে প্রশ্ন করে "আচ্ছা ওই ছোকরাগুলো, মানে গতকালের রেইডে ধরা পড়া চার জনের মধ্যে—কেউ মুখ খুলেছে এখনো?"

"না স্যার......। ব্যাটাগুলো এখনো কিছু বলেনি। যতবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, একটাই কথা—‘আমরা কিছু জানি না, আমরাদের ওপর শুধু সাদা বাক্সগুলো ডেলিভার করার দায়িত্ব ছিল। বাকি কিছু আমরা জানি না।’ অনেকবার পিটিয়েছি শয়তানগুলোকে স্যার, তবুও মুখ খুলছে না। ব্যাটাদের বুকের পাটা অনেক। এবার কি তবে থার্ড ডিগ্রী শুরু করবো স্যার?”

"উম্ম... এখন‌ই না।" আহান মাথা নাড়ায়। "ওদের কাল অবধি সময় দিন। তার মধ্যেও যদি কিছু না বলে তখন থার্ড ডিগ্রী শুরু করবেন।"

আহান একটু থেমে তারপর দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলে “চোখ মুখ দেখে যতোটা বুঝেছি, ওরা জানে অনেক কিছু। কিন্তু কিছু বলছে না। ঠিক আছে আমিও দেখবো কতদিন ওরা চুপ করে বসে থাকতে পারে!"

ঘোষবাবু মাথা নেড়ে বলে, “হ্যাঁ স্যার, আমরা একটু হালকা করে নেব ভাবছিলাম। কিন্তু সোজা পথে কিছু হবে না, আঙুল বেঁকাতেই হবে।”

আহান ঠোঁট বাঁকায়। “শুধু আঙ্গুল বেঁকালে হবে না ঘোষ বাবু, ওদের ঘাড় বেঁকাতে হবে। সত্যি যদি ওরা কিছু না জানে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যদি কিছু জানে , তাহলে কাল সন্ধ্যার মধ্যে নামের লিস্ট আমার ডেস্কে চাই। বুঝেছেন তো? কারণ আমরা কার্লকে ছুঁতে চাইছি। তবে কার্লের কাছে পৌঁছানো এতো সহজে সম্ভব নয় ঘোষ বাবু। রাস্তায় অনেক কাউকে গুঁড়িয়ে ফেলতে হবে, তবেই না মাথা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো”

ঘোষ আবার স্যালুট ঠুকে বলে, “আন্ডারস্টুড স্যার।”

"ঘোষ বাবু, কার্ল যদি মাথা হয় তাহলে আমাদের কানকে খুঁজতে হবে আগে। কারণ কান টানলেই........"

"মাথা আসে.....।" আহানের কথা কমপ্লিট করে হেসে ওঠেন ঘোষ বাবু।

"হ্যাঁ.....। একদম ঠিক বলেছেন আপনি।" আহান হাসে তারপর বেরিয়ে যায় পুলিশ স্টেশন থেকে।

পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে প্রায় দশটার মতো মিস্‌ড কল। সব কটা বাড়ি থেকে এসেছে। জিভ কাটে আহান। ফোনটা সাইলেন্ট ছিল তাই ফোনের আওয়াজ একদম কানে যায়নি তার। দ্রুত ফোনটা পকেটে রেখে বাইকের চাবিটা বের করে বেরিয়ে পরে সে।







চলবে......................................