পরের দিনটা আরোহীর জন্য অদ্ভুত ভারী ছিল।
সবকিছু আগের মতোই—
ক্লাস, নোটস, মীনার endless কথা…
কিন্তু তবুও যেন কিছু একটা missing।
আরোহী নিজেকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছিল—
“এটা কিছু না… just a phase…”
কিন্তু যখনই তার চোখ রোহিতের দিকে চলে যায়—
সে বুঝতে পারে,
এটা এত simple না।
ক্লাসে—
প্রফেসর কিছু বুঝিয়ে চলেছেন,
কিন্তু আরোহীর মন একদম অন্য কোথাও।
হঠাৎ—
“Miss Arohi, can you answer this?”
সে চমকে উঠল।
“Sorry, sir…”
পুরো ক্লাস হালকা হাসল।
আর ঠিক তখনই—
তার চোখ গিয়ে পড়ল রোহিতের দিকে।
সে তাকিয়ে আছে…
কিন্তু এবার তার চোখে কোনো মজা নেই,
বরং একটা অদ্ভুত seriousness।
ক্লাস শেষে—
আরোহী তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছিল।
“Hey, Arohi.”
সে থেমে গেল।
ধীরে ঘুরে দাঁড়াল—
রোহিত।
“Can we talk?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর আরোহী আস্তে বলল—
“কি নিয়ে?”
রোহিত একটু বিরক্ত হয়ে বলল—
“Stop acting like this.”
এইবার আরোহীর ভেতরের জমে থাকা অভিমান বেরিয়ে এল—
“Like what?”
“Like you don’t care!”
“Because maybe I don’t!”
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
মনে হচ্ছিল—
নিজেকেই মিথ্যে বলছে।
রোহিত কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর আস্তে বলল—
“Then why does it bother you?”
এই প্রশ্নটার কোনো উত্তর নেই।
আরোহী চোখ সরিয়ে নিল—
“তোমার life… তোমার choice।
আমার কিছু বলার নেই।”
রোহিত হালকা হেসে ফেলল—
কিন্তু সেই হাসিতে কষ্ট ছিল।
“Exactly. That’s the problem.”
বাইরে তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। 🌧️
আকাশটা মেঘে ঢেকে গেছে—
ঠিক যেমন তাদের দুজনের মনের অবস্থা।
আরোহী হঠাৎ ঘুরে চলে যেতে লাগল।
রোহিত পেছন থেকে বলল—
“তুমি জানো না তুমি কি থেকে দূরে সরে যাচ্ছো…”
আরোহী থেমে গেল।
কিন্তু সে পিছনে ফিরে তাকাল না।
“Maybe… I don’t want to know.”
তার গলা কাঁপছিল।
তারপর সে বৃষ্টির ভেতর হেঁটে চলে গেল।
বৃষ্টির ফোঁটা তার মুখে পড়ছিল—
কিন্তু সে বুঝতে পারছিল না,
এটা বৃষ্টি…
না তার চোখের জল।
অন্যদিকে—
রোহিত একা দাঁড়িয়ে রইল।
তার হাত দুটো মুঠো হয়ে গেছে।
“Why is this so hard…”
সে আস্তে করে বলল।
সেদিন রাতে—
আরোহী ডায়েরিতে লিখল—
“কিছু দূরত্ব…
ইচ্ছে করে তৈরি করা হয় না।
তবুও তৈরি হয়ে যায়…
বৃষ্টির সেই দিনের পর—
আরোহী আর রোহিতের মধ্যে দূরত্বটা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
ক্লাসে তারা একে অপরকে দেখে—
কিন্তু যেন দেখেও দেখে না।
কথা বলার অনেক সুযোগ আসে,
কিন্তু কেউই আর এগিয়ে আসে না।
মীনা একদিন আর সহ্য করতে না পেরে বলল—
“Enough is enough! তোমরা দুজন exactly কি problem-এ আছো?” 😑
আরোহী একটু বিরক্ত হয়ে বলল—
“Nothing, Meena. Seriously.”
“Don’t lie.”
মীনার কণ্ঠ এবার একদম calm,
কিন্তু চোখে চিন্তা স্পষ্ট।
“তুমি বদলে গেছো, Arohi.”
এই কথাটা শুনে আরোহী চুপ হয়ে গেল।
সে কি সত্যিই বদলে গেছে?
নাকি সে শুধু নিজের feelings-গুলো লুকানোর চেষ্টা করছে?
সেদিন বিকেলে—
আরোহী একা একা কলেজের পিছনের পুরোনো গার্ডেনে গিয়ে বসে ছিল। 🌿
এখানে খুব কম লোক আসে।
শান্ত, নির্জন…
ঠিক তার মনের মতো।
সে চোখ বন্ধ করে একটু শান্তি খুঁজছিল—
“তুমি সবসময় এখানেই পালিয়ে আসো?”
চেনা কণ্ঠস্বর।
আরোহী চোখ খুলল।
রোহিত।
“Follow করছো আমাকে?”
আরোহী একটু sarcastic ভাবে বলল।
রোহিত হালকা হাসল—
“Coincidence… maybe.”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
হাওয়ায় একটা অদ্ভুত টান।
শেষমেশ রোহিত বলল—
“Why are you avoiding me?”
আরোহী সরাসরি তাকাল—
“Why are you lying to me?”
প্রশ্নটা শুনে রোহিত থেমে গেল।
“আমি কি নিয়ে মিথ্যে বলেছি?”
আরোহীর চোখে কষ্ট—
“নিশা… ‘just someone’?”
রোহিত গভীর নিঃশ্বাস নিল।
তারপর ধীরে বলল—
“সে আমার past…”
আরোহীর বুকটা ধক করে উঠল।
“Past…?”
রোহিত নিচের দিকে তাকাল—
“হ্যাঁ।
She was… everything.”
কথাটা বলতে তার গলা একটু ভারী হয়ে গেল।
“কিন্তু কিছু জিনিস… শেষ হয়ে যায়।
Even if you don’t want them to.”
আরোহী কিছু বলতে পারছিল না।
তার মনে হচ্ছিল—
সে যেন হঠাৎ করে একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে,
যেখানে সে আসার জন্য প্রস্তুত ছিল না।
“তাহলে এখন?”
সে আস্তে জিজ্ঞেস করল।
রোহিত তার দিকে তাকাল—
চোখে ক্লান্তি, কিন্তু সত্যতা।
“Now… I’m just trying to move on.”
“আর আমি?”
প্রশ্নটা হঠাৎ বেরিয়ে গেল।
রোহিত একটু অবাক হয়ে তাকাল।
“তুমি… different।”
“Different how?”
রোহিত কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল—
তারপর ধীরে বলল—
“তুমি এমন একজন…
যাকে আমি হারাতে চাই না।
আর ঠিক সেই কারণেই—
আমি ভয় পাই।”
এই কথাটা শুনে—
আরোহীর ভেতরের সব দেয়াল যেন একটু নরম হয়ে গেল।
কিন্তু তবুও—
“Fear doesn’t justify distance, Rohit.”
তার গলা শান্ত, কিন্তু দৃঢ়।
ঠিক তখনই—
পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর—
“Wow… so this is what’s going on.”
দুজনেই ঘুরে তাকাল।
নিশা।
সে দাঁড়িয়ে আছে—
চোখে সেই একই ঠান্ডা দৃষ্টি,
কিন্তু এবার তাতে রাগও মিশে গেছে।
“Move on, huh?”
সে হালকা হেসে বলল—
“Let’s see… তুমি আসলেই move on করতে পারো কিনা।”
হাওয়াটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে গেল।
আরোহী বুঝতে পারল—
এই গল্পটা শুধু তার আর রোহিতের না…
এখানে আরও অনেক অজানা গল্প জড়িয়ে আছে।
সেদিন রাতে—
আরোহী ডায়েরিতে লিখল—
“কিছু অতীত…
কখনো সত্যি শেষ হয় না।
শুধু আমাদের বর্তমানকে ভেঙে দেয়…”