Forbidden Love - 4 in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 4

Featured Books
Categories
Share

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 4

 “যত দূরে যাই, তত কাছে টানে”
দিনগুলো যেন এখন খুব ধীরে কাটছে।
ঈশার কাছে প্রতিটা দিন একই রকম—
চুপচাপ ক্লাসে যাওয়া, একা বসে থাকা, কারও সাথে তেমন কথা না বলা।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে—
সবকিছু এলোমেলো।
সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—
“আমি ঠিক করেছি… দূরে থাকাই ভালো…”
কিন্তু মন মানছে না।
আজ লাইব্রেরিতে বসে আছে ঈশা।
বই খোলা সামনে…
কিন্তু একটাও শব্দ মাথায় ঢুকছে না।
কারণ তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে দরজার দিকে।
সে জানে না কেন—
কিন্তু সে অপেক্ষা করছে।
মেঘলার জন্য।
কিছুক্ষণ পর…
মেঘলা ঢুকল।
কিন্তু আজ সে একা না।
তার সাথে আবার সেই অয়ন।
দুজন একসাথে হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকল।
ঈশার বুকটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে গেল।
সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল।
— “আমি কেন এমন feel করছি?”
তার গলায় কাঁটা লাগছে।
ওদিকে মেঘলা ঈশাকে দেখেই থেমে গেল।
তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য একটা নরম ভাব এল।
কিন্তু তারপর সে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
সে নিজেকেও শক্ত করে ফেলেছে।
দুজনেই একই ঘরে…
তবুও যেন অনেক দূরে।
হঠাৎ লাইব্রেরির ভেতরে আলো চলে গেল।
চারপাশে অন্ধকার।
কিছু লোক বেরিয়ে যেতে লাগল।
ঈশা একটু ভয় পেয়ে গেল।
সে ছোটবেলা থেকেই অন্ধকারে একটু অস্বস্তি বোধ করে।
ঠিক তখনই—
কেউ তার হাত ধরে ফেলল।
ঈশা চমকে উঠল।
— “কে?”
— “আমি…”
মেঘলার গলা।
ঈশার বুকটা কেঁপে উঠল।
এই কয়েকদিন পর—
এই প্রথম ওরা এত কাছে।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “তুমি ঠিক আছো?”
ঈশা একটু থেমে বলল—
— “হ্যাঁ…”
কিন্তু তার গলা কাঁপছিল।
মেঘলা হাতটা ছাড়ল না।
— “তুমি এখনও অন্ধকারে ভয় পাও?”
ঈশা অবাক হয়ে গেল—
— “তুমি জানো?”
— “আমি তোমাকে observe করি…”
এই কথাটা শুনে ঈশার শরীর দিয়ে শিহরণ বয়ে গেল।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
অন্ধকার…
নিঃশ্বাসের শব্দ…
আর হাতের উষ্ণতা…
ঈশা ধীরে বলল—
— “তুমি কেন এসেছো আমার কাছে?”
মেঘলা উত্তর দিল—
— “কারণ তুমি একা ছিলে…”
— “তুমি তো আর আমার না…”
ঈশা ফিসফিস করে বলল।
এই কথাটা শুনে মেঘলার হাত শক্ত হয়ে গেল।
— “আমি কি কখনো বলেছি আমি তোমার না?”
ঈশা চুপ।
তার চোখে জল চলে এসেছে।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “তুমি দূরে গেছো… আমি না…”
এই কথাটা যেন ঈশার হৃদয়ে সোজা আঘাত করল।
সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
— “আমি ভয় পাই…”
সে কেঁপে কেঁপে বলল।
— “কিসের?”
— “সব হারানোর…”
মেঘলা এবার একটু কাছে এল।
— “তুমি আমাকে হারাবে না…”
ঈশা মাথা নেড়ে বলল—
— “সবাই তো একদিন চলে যায়…”
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর খুব নরম গলায় বলল—
— “আমি যাব না…”
এই কথাটা শুনে ঈশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
সে কিছু বলতে পারল না।
হঠাৎ আলো ফিরে এল।
দুজনেই একসাথে চোখ পিটপিট করল।
আর তখনই—
ওরা বুঝতে পারল—
ওদের হাত এখনও একসাথে ধরা।
দুজনেই একটু লজ্জা পেয়ে হাত ছেড়ে দিল।
কিন্তু সেই মুহূর্তটা—
ওদের ভেতরে থেকে গেল।
ঠিক তখনই অয়ন এসে বলল—
— “মেঘলা, চল?”
মেঘলা একটু থেমে ঈশার দিকে তাকাল।
তার চোখে অনেক কিছু ছিল—
কিন্তু সে কিছু বলল না।
শুধু ধীরে ঘুরে চলে গেল।
ঈশা একা দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখে জল,
কিন্তু ঠোঁটে হালকা হাসি।
— “ও এখনও আছে…”
সে মনে মনে বলল।
সেদিন রাতে…
ঈশা ডায়েরিতে লিখল—
“আমি যত দূরে যেতে চাই…
ততই যেন ও আমার কাছে চলে আসে…”
ওদিকে মেঘলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
— “তুমি পালাচ্ছো… কিন্তু আমি ছাড়বো না…”
 এই টান কি আবার ওদের এক করবে?
 না কি আবার নতুন করে ভেঙে দেবে?
Part 6: “স্বীকারের ভয়, অস্বীকারের কষ্ট”
পরের দিন…
কলেজে ঢুকতেই ঈশার মনে হচ্ছিল—
আজ মেঘলার সামনে পড়লে কী বলবে?
গতকালের সেই মুহূর্ত…
হাত ধরা… কথা… চোখের ভাষা…
সবকিছু এখনও fresh।
ক্লাসে ঢুকে সে চুপচাপ বসে রইল।
কিছুক্ষণ পর মেঘলা ঢুকল।
আজ সে একা।
ঈশার বুকটা হালকা হলো।
মেঘলা এসে তার পাশে বসে পড়ল।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না।
শুধু নীরবতা।
শেষে মেঘলা বলল—
— “কালকের জন্য sorry বলব?”
ঈশা অবাক হয়ে তাকাল—
— “কিসের জন্য?”
— “তোমার হাত ধরা…”
ঈশার গলা শুকিয়ে গেল।
— “তুমি কি regret করছো?”
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর ধীরে বলল—
— “না…”
এই “না” শব্দটা ঈশার ভেতরে কেমন একটা আলো জ্বালিয়ে দিল।
— “তাহলে sorry কেন?” ঈশা ফিসফিস করে বলল।
মেঘলা হালকা হেসে বলল—
— “কারণ তুমি হয়তো uncomfortable হয়েছিলে…”
ঈশা ধীরে মাথা নাড়ল—
— “না… আমি হয়নি…”
দুজনেই একটু থেমে গেল।
তারপর মেঘলা বলল—
— “ঈশা… আমরা কি নিজেদের কাছে honest হতে পারি?”
ঈশার বুক ধড়ফড় করছে।
— “মানে?”
— “মানে… আমরা যা feel করছি… সেটা admit করা…”
ঈশা চোখ নামিয়ে ফেলল।
— “আমি ভয় পাই…”
— “কিসের?”
— “যদি এটা ভুল হয়?”
মেঘলা এবার একটু কাছে এসে বলল—
— “ভালো লাগা কখনো ভুল হয় না…”
এই কথাটা ঈশার মনে গভীরভাবে ঢুকে গেল।
সে ধীরে বলল—
— “তাহলে… আমরা যা feel করছি… সেটা কি normal?”
মেঘলা হেসে বলল—
— “হয়তো সবার কাছে না… কিন্তু আমাদের কাছে real…”
এই কথার পর দুজনেই চুপ।
কিন্তু আজকের নীরবতা আগের মতো অস্বস্তিকর না।
এটা শান্ত।
বিরতির সময়…
দুজন ক্যান্টিনে গেল।
অনেকদিন পর আবার একসাথে বসা।
মেঘলা বলল—
— “তুমি জানো… তুমি না থাকলে আমি ঠিক থাকি না…”
ঈশা হালকা হেসে বলল—
— “আমিও…”
এই ছোট্ট কথাগুলোই যেন অনেক বড় কিছু।
হঠাৎ পাশের টেবিলে কিছু ছেলে-মেয়ে হাসতে হাসতে বলছিল—
— “এইসব same gender attraction সব phase… পরে ঠিক হয়ে যায়!”
ঈশার হাত থেমে গেল।
তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
মেঘলা সেটা notice করল।
সে ধীরে বলল—
— “ওদের কথা শুনো না…”
ঈশা ফিসফিস করে বলল—
— “যদি সত্যি হয়?”
মেঘলা এবার একটু দৃঢ় গলায় বলল—
— “না… এটা phase না…”
— “তুমি এত sure কীভাবে?”
মেঘলা একটু চুপ করে থেকে বলল—
— “কারণ আমি প্রথমবার কারও জন্য এমন feel করছি…”
তার চোখ সোজা ঈশার দিকে।
ঈশার শ্বাস আটকে গেল।
— “আমিও…” সে খুব আস্তে বলল।
এই প্রথম—
দুজনেই নিজের feelings accept করল।
পুরোপুরি না,
কিন্তু অস্বীকারও না।
সন্ধ্যায়…
দুজন একসাথে কলেজ থেকে বের হলো।
আজ আর distance নেই।
কিন্তু একটা নতুন tension আছে।
হাঁটতে হাঁটতে মেঘলা বলল—
— “ঈশা… যদি আমরা এই feeling-টাকে একটা নাম দিই?”
ঈশা থেমে গেল।
— “কী নাম?”
মেঘলা ধীরে বলল—
— “ভালোবাসা…”
ঈশার বুক কেঁপে উঠল।
এই শব্দটা এতদিন শুধু শুনেছে…
আজ প্রথমবার নিজের জীবনে অনুভব করছে।
সে কিছু বলল না।
কিন্তু তার চোখে উত্তর ছিল।
মেঘলা হালকা হেসে বলল—
— “তুমি না বললেও আমি বুঝি…”
দুজন আবার হাঁটা শুরু করল।
কিন্তু আজ তাদের পথটা আগের মতো না।
আজ তারা শুধু friend না।
 তারা এমন একটা পথে হাঁটছে…
যার নাম—অজানা ভালোবাসা।
সেদিন রাতে…
ঈশা আয়নায় নিজেকে দেখে বলল—
— “আমি কাউকে ভালোবাসি…”
তার গলায় ভয় আছে,
কিন্তু সাথে একটা অদ্ভুত শান্তিও।
ওদিকে মেঘলা ডায়েরিতে লিখল—
“আজ আমরা কিছু বলিনি…
তবুও সব বুঝে গেলাম…”
 কিন্তু সমাজ?
 পরিবার?
তারা কি এই ভালোবাসাকে মেনে নেবে?