Jharapata 61 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 61

Featured Books
  • पदचिन्ह

    पदचिन्ह बचपन में दादा-दादी, नाना-नानी की सुनाई गई कहानियां क...

  • वो सफर

    वो सफर (एक प्रेरणादायक हिन्दी कहानी)लेखक: विजय शर्मा Erryरेल...

  • पहली नज़र का इश्क - 4

    स्कूल की जिंदगी अब बिकाश और माया के लिए पहले जैसी सामान्य नह...

  • यशस्विनी - 31

         31: स्त्री देहतभी कक्ष में स्वामी मुक्तानंद की आवाज गूं...

  • मंजिले - भाग 42

                             ( 42 )"पछचाताप कहानी " एक मर्मिक जज...

Categories
Share

ঝরাপাতা - 61

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৬১

🥀🌿🥀🌿🥀🌿🥀

মিলি যা ভাবছিল তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছিল বাবার গলায়, "তোমার কনসার্ন যদি লিলিকে নিয়ে হয়, তুমি আবার ভাবো রনি। আমরা ফোর্স করছি বলে মিলিকে নিয়ে যেতে হবে না। একবার জোর করে বিয়ে দেওয়া হল, নিয়ে গিয়ে তুমি যা করলে, তার চেয়ে আমার মেয়ে আমার কাছে ভালো আছে।" বাবা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। 

মিলির তখন হাত পা পেটের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। রনি কি চায়? এতদিন ধরে এত কথার পর যেই সেই দিনটা আসতে চলেছে, সব তছনছ করে দিচ্ছে কেন ও? মিলি যে ওকে নিজের সবকিছু মেনে বসে আছে ! অথচ ও সবসময় দিদিকে উদ্ধার করার কথা ভাবে কেন আগে? 

- "আপনি যদি মিলিকে নিজের কাছে রাখতে চান, আমি কি করব বলুন? কিন্তু ঐ দিনটাতে লিলি সবদিকে বঞ্চিত হচ্ছে, এটা আমি ভুলি কি করে?" রনি একচুল নড়ে না। 

- "মিলি, তুই কি চাস? লিলির ভালো ছাড়া কিছুই রনির চোখে পড়ছে না। আর সেটাতে তুই রাজি?" বাবা ওর দিকে ঘুরে বসেছিল। 

- "দাদা, এসব কি বলছেন? রনি ভুলভাল বকছে, ওর বুদ্ধিই বা কি? মিলিকে আমরা নিয়ে যাব।" মণিকা কাকিমা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। 

- "না, কক্ষণো না।" বাবা আচমকা চেঁচিয়ে উঠেছিল। 

সেই চীৎকারে ঘোর কেটেছিল মিলির। রনির দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে ছিল। 

বাবা বলে যাচ্ছে, "কক্ষণো না। আপনারা কেউ নিতে চাইলেই আমি আমার মেয়েকে পাঠাবো না। আপনার ছেলের কথার কোনো ঠিক নেই। একেকবার আমার মেয়েটাকে ওর একেক রকম পাগলামি সহ্য করতে হয়।" 

- "আ হা হা কাকু, রনি তো আর পাগল না। ও মানে ঐ আরকি, একটা কথা নিয়ে পড়ে গেছে........" বনিদা সব থামাতে চায়।

- "দাদা, মাথা ঠান্ডা করুন।" মণিকা কাকিমা বলে। 

- "আপনার ছেলেকে বলুন, মাথার চিকিৎসা করতে। যে মেয়ে ওকে বিয়ে করেনি, তার জন্য লড়ে যাচ্ছে ও। আর আপনার কথায় কি ভরসা করব? আপনার এই ছেলে যখন পালিয়ে গেছিল, আপনি নিজে কি করেছিলেন? আমার মেয়েটাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।" মণিকা কাকিমাকে রেগে মেগে বলতে বলতেই, বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়, হাঁপাতে শুরু করে। মা ছুটে আসে, কি হল, কি হল বলে। 

রনি তার মধ্যে বলে, "আপনি আমার মাকে ধমকাচ্ছেন কেন?"

- "আহ, রনি চুপ কর। দাদার শরীর ভালো না........" মণিকা কাকিমা থামাতে গেছিল ছেলেকে। 

- "না মা, আমি চুপ করব না। আমার অন্যায়ের জন্য যত খুশি কথা শোনান উনি, আমি চুপ করে শুনব। তোমাকে আমার সামনে দাঁড়িয়ে অপমান করলে......"

- "অন্যায় কাকে বলে জানো? যা যা করেছ, তার একটাও করতে না জানা থাকলে। তুমি নাকি চুপ করে থাকবে ! হুঁহ ! চুপ করে বিয়ে করে পালাতে জানো। আর ফালতু কথার বেলায় তোমার মুখ বন্ধ করে কার সাধ্য !" বাবা তখন সত্যিই ক্ষিপ্ত হয়ে গেছিল। 

সেটা দেখে রনিকে থামিয়ে বনিদা বলে, "রনি চুপ কর। আপনিও শান্ত হয়ে বসুন কাকু। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন, মা কোনো দোষ করেনি.........."

- "তোমরা কেউ কোনো দোষ করোনি, ঠিক আছে? আমরা হাজার দোষ করেছি। আমাদের বাড়ির ব্যাপার, আমাদের বুঝে নিতে দাও।" কোনোমতে বনিদাকে বলেছিল বাবা। 

- দেখলি দাদা? কথাগুলো শুনলি? আমাকে অকারণ টন্ট করছেন।" রনি দাদার পাশে এসে দাঁড়ায়। 

সমর আবার কিছু বলার আগেই কাকিমণি থামায়, "আর কোনো কথা না দাদা। আপনি বসুন, বিশ্রাম নিন। শরীর খারাপ হচ্ছে যে। বাকি কথা পরে হবে।"

রনি এগিয়ে এসে বলেছিল, "কিছু কথা বলার নেই কাকু। আমার যেটা মনে হয়েছিল........"

🥀🌿🥀🌿🥀🌿🥀

- "তোমার কি মনে হয়েছিল, আমরা কেউ শুনতে চাই না রনিদা। ভগবানের দোহাই, চুপ করো।" মিলি বাবার কাছে এসে রনির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। 

রনি উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবে, "আমি বলতে গেছিলাম, আমার যা মনে হয়েছে, আমি বলেছি। মানা, না মানা আপনাদের ব্যাপার। শুধু শুধু রাগ পুষে রেখে কি হবে?"

- "একটা কথাও বলতে দিল না আমাকে। ওর বাবা আর কি অপমান করল ! বাবার ঢের ঢের উপর দিয়ে যায়। আমার নাকের সামনে আঙ্গুল নেড়ে বলল, আমার বাবার শরীর ভালো না, তুমি এবার এসো।"

মিলি একথা বলার পর মা পর্যন্ত বোঝাতে গেছিল, "দাঁড়া মিলি, তোর বাবার শরীরটা খারাপ লাগছে। একটু দেখি। আর সব কথা বাদ দে, আর দশদিন বাকি অনুষ্ঠানের। সেগুলো এবার গোছাতে হবে তো।"

- "কোনো অনুষ্ঠান হবে না। তোমরা এসো কাকিমা। তোমরা থাকলেই বাবার শরীর বেশি খারাপ করবে বুঝতে পারছি। বাবা ঘরে চলো, একটু শোবে।"

- "এ্যাই মিলি, কি সব বলছিস রে? এখন এসব থামা তোরা। আমি বরং ডাক্তার কাউকে ডাকি, তুই কাকুর সঙ্গে থাক।" বনি পরিস্থিতি হাতে নিতে গেছিল। 

- "বাবাকে আমিই ডাক্তার দেখাতে পারব। তোমরা এসো। তোমার ঐ ভাইকে নিয়ে এবার এসো।" বনিকে বললেও মিলির চোখ রনির দিকে, আঙ্গুল তুলে দরজা দেখিয়ে দেয়। 

- "মিলি, কি বলছ জানো? আমাকে চলে যেতে বলছ?" রনির গলাটা যে গোঙানির মতো লাগছে, মিলি কি শুনতে পায়নি? 

চলবে