I found you on the wrong path. - 17 in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 17

Featured Books
Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 17

পথে পেলাম তোমাকে – 
“ভুলে যাওয়া ভালোবাসা — যখন আলো নিজেকে মনে করতে শুরু করে”

রাত আবার নেমেছে।
কিন্তু এই রাত অদ্ভুত—
কারণ অন্ধকারের ভেতর আজ
কিছু একটা কাঁদছে।
ইরা জানে না সে কোথায়।
চারপাশ সাদা, অথচ ঠান্ডা।
কোনো দেয়াল নেই,
কোনো আকাশও না।
শুধু একটাই অনুভূতি—
বুকে অসম্ভব ব্যথা।
— “আমি কাঁদছি কেন?”
সে নিজের গলা শুনে অবাক হয়।
তার চোখ ভিজে যাচ্ছে,
কিন্তু সে জানে না কার জন্য।
হঠাৎ সাদা শূন্যতার ভেতর
একটা ছায়া নড়ে উঠল।
ছায়া নয়—
একটা অনুভূতি।
— “ভালোবাসা ভুলে যাওয়া যায় না…”
ইরা চমকে উঠল।
— “কে?”
উত্তর আসে না।
কিন্তু তার বুকের ভেতর
একটা নাম কাঁপে।
মা—
না।
নামটা থেমে যায়।
◆ ১. স্মৃতির ফাটল
হঠাৎ সাদা আলো ফেটে যায়।
ইরা পড়ে যায় মাটিতে—
এবার মাটি আছে।
চারপাশ বদলে গেছে।
সে একটা শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে।
চেনা লাগে না।
কিন্তু বুকের ভেতর অস্থিরতা।
একটা কফিশপের সামনে এসে
তার পা থেমে যায়।
— “আমি এখানে কেন দাঁড়িয়ে?”
ভেতর থেকে একটা টান।
কাচের দরজার ভেতর
একজন মেয়েকে সে দেখতে পায়।
কালো জামা,
চুল বাঁধা,
চোখে অদ্ভুত শূন্যতা।
মায়া।
ইরা জানে না নামটা কেন মনে এলো।
কিন্তু হৃদয় হঠাৎ চেপে ধরল।
— “ওকে দেখলে
এত কষ্ট হচ্ছে কেন…?”
মায়া কফির কাপ ধরে আছে।
কিন্তু চোখে কোনো স্বাদ নেই।
তার পাশে বসে থাকা লোকটা কিছু বলছে।
মায়া শুধু মাথা নাড়ছে।
ভেতরে ভেতরে তার কিছু নেই।
ইরা কাচে হাত রাখল।
— “তুমি কেমন আছো…?”
মায়া হঠাৎ মাথা তুলল।
কাচের ওপারে তাকিয়ে থমকে গেল।
এক সেকেন্ড।
শুধু এক সেকেন্ড।
কিন্তু সেই এক সেকেন্ডে
মায়ার বুক কেঁপে উঠল।
— “এই অনুভূতিটা…
আমি চিনি…”
সে নিজের বুক চেপে ধরল।
লোকটা জিজ্ঞেস করল—
— “মায়া, তুমি ঠিক আছো?”
মায়া ধীরে মাথা নাড়ল।
— “জানি না কেন…
কিন্তু মনে হচ্ছে
কিছু হারিয়ে ফেলেছি।”
ইরার চোখে জল চলে এল।
◆ ২. পূর্ণ ছায়ার ভয়
অন্ধকারে
পূর্ণ ছায়া দাঁড়িয়ে দেখছে।
তার চোখে অস্থিরতা।
— “অসম্ভব…”
সে ফিসফিস করল।
“চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।”
তার চারপাশে ছায়ারা ফিসফিস করছে।
— “আলো জেগে উঠছে…”
— “স্মৃতি ফাটছে…”
পূর্ণ ছায়া গর্জে উঠল—
— “চুপ!”
সে অন্ধকারের ভেতর হাত বাড়াল।
— “আমি নিজেই নামব।”
◆ ৩. স্পর্শ — স্মৃতির চাবি
হঠাৎ কফিশপের দরজা খুলে গেল।
ইরা ভিতরে ঢুকল।
তার শরীর এখনো আলো—
কেউ তাকে দেখছে না।
মায়ার ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল।
— “তুমি আমাকে দেখো না…
কিন্তু তুমি আমাকে অনুভব করো।”
ইরা ধীরে হাত বাড়াল।
তার আঙুল
মায়ার হাত ছুঁল।
এক ঝাঁকুনি।
মায়ার চোখ বড় হয়ে গেল।
— “এই স্পর্শটা…”
তার চোখের সামনে
ঝাপসা ছবি—
এক রাত,
একটা জানালা,
একটা কণ্ঠ—
— “তুই আছিস… তাই আমি ঠিক আছি।”
মায়ার হাত থেকে কফির কাপ পড়ে গেল।
চূর্ণবিচূর্ণ।
লোকটা চমকে উঠল—
— “মায়া!”
মায়া উঠে দাঁড়াল।
শ্বাস দ্রুত।
— “আমি…
আমি কাউকে খুঁজছি।”
ইরা কাঁপা গলায়—
— “আমাকেই।”
◆ ৪. মুখোমুখি — স্মৃতি বনাম চুক্তি
হঠাৎ চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে গেল।
লোকজন অদৃশ্য।
শুধু ইরা আর মায়া।
আর পূর্ণ ছায়া।
— “দূরে থাক,”
পূর্ণ ছায়া গর্জে উঠল।
“তুমি নিয়ম ভাঙছ!”
ইরা সামনে দাঁড়াল।
— “ভালোবাসা কোনো নিয়ম মানে না।”
পূর্ণ ছায়া মায়ার দিকে তাকাল।
— “তুমি কি ওকে চিনো?”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “না…”
একটু থেমে বলল—
— “কিন্তু ওর দিকে তাকালে
আমি বাঁচতে চাই।”
পূর্ণ ছায়ার চোখ জ্বলে উঠল।
— “এইটাই বিপদ।”
সে মায়ার দিকে হাত বাড়াল।
ইরা চিৎকার করল—
— “না!”
তার শরীর থেকে আলো বিস্ফোরিত হলো।
◆ ৫. জাগরণ — আলো সম্পূর্ণ হয়
ইরার চোখে সব স্মৃতি ফিরে এলো।
ত্যাগ।
ভালোবাসা।
চুমু।
বিদায়।
— “আমি আলো নই,”
ইরা বলল।
“আমি ভালোবাসা।”
সে মায়ার হাত ধরল।
এইবার—
মায়া ইরাকে দেখতে পেল।
— “তুমি…”
ইরা কাঁদতে কাঁদতে হাসল।
— “হ্যাঁ।”
পূর্ণ ছায়া পিছিয়ে গেল।
— “না…
এটা হওয়ার কথা ছিল না…”
◆ ৬. শেষ ইঙ্গিত
অন্ধকার সরে যাচ্ছে।
কিন্তু যুদ্ধ শেষ না।
পূর্ণ ছায়া ফিসফিস করল—
— “পূর্ণ গ্রহণের রাতে
চূড়ান্ত মূল্য দিতে হবে।”
সব মিলিয়ে গেল।
মায়া আর ইরা
একে অপরের দিকে তাকিয়ে।
— “আমি তোমাকে হারিয়েছিলাম,”
মায়া বলল।
ইরা তার কপালে কপাল রাখল।
— “আর আমি ফিরে এলাম।”


পূর্ণিমার রাত।
কিন্তু আকাশে চাঁদ নেই।
মায়া জানে—
যেদিন চাঁদ লুকিয়ে থাকে,
সেদিনই ছায়ারা সবচেয়ে সত্যি হয়।
ইরা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে।
তার চোখে আলো আছে,
কিন্তু সেই আলো এখন শান্ত নয়—
প্রস্তুত।
মায়া ধীরে এগিয়ে এসে বলল—
— “আজ যদি কিছু ভুল হয়…”
ইরা ঘুরে তাকাল।
— “আজ আর ‘যদি’ নেই।”
মায়া তার কপালে কপাল ঠেকাল।
— “পূর্ণ গ্রহণের রাতে
একজনকেই পুরোটা দিতে হয়।”
ইরা মৃদু হাসল।
— “আমি জানি।
আর আমি ভয় পাচ্ছি না।”
কিন্তু মায়া পাচ্ছে।
কারণ সে জানে—
পূর্ণ ছায়া কখনো মিথ্যে বলে না।
◆ ১. শেষ ডাক
হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এলো।
বাতাস থেমে গেল।
ঘরের ভেতর
সব ছায়া একসাথে নড়ল।
একটা গভীর কণ্ঠ চারদিক থেকে ভেসে এলো—
— “সময় হয়ে গেছে।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “ও এসেছে।”
ইরা তার হাত ধরল।
— “এইবার আমরা একসাথে দাঁড়াব।”
মেঝের মাঝখান থেকে
কালো বৃত্ত তৈরি হতে লাগল।
ছায়া পরিষদ।
আর তাদের মাঝখানে—
পূর্ণ ছায়া।
আজ সে আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
চোখে আগুন,
কণ্ঠে শূন্যতা।
— “ইরা,”
সে শান্ত স্বরে বলল।
“শেষবারের মতো প্রস্তাব।”
ইরা এগিয়ে গেল।
— “আমি শুনছি।”
মায়া চিৎকার করল—
— “না!”
পূর্ণ ছায়া মুচকি হাসল।
— “ও নিজের ইচ্ছেতেই দাঁড়িয়েছে, মায়া।”
সে ইরার দিকে তাকাল।
— “আমার সঙ্গে এসো।
সব যুদ্ধ থামবে।
মায়া বাঁচবে।”
ইরা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর বলল—
— “আর আমার মূল্য?”
পূর্ণ ছায়া উত্তর দিল—
— “তোমার ভালোবাসা।
তোমার স্মৃতি।
তোমার ‘তুমি’।”
মায়ার বুকের ভেতর কিছু ভেঙে গেল।
— “ইরা… দয়া করে…”
ইরা পিছনে তাকাল।
মায়ার চোখে জল।
— “তুমি আমাকে শিখিয়েছিলে,”
ইরা বলল।
“ভালোবাসা মানে নিজের সত্যকে বেছে নেওয়া।”
সে পূর্ণ ছায়ার দিকে ফিরল।
— “আমি আসব না।”
ছায়া পরিষদ গর্জে উঠল।
— “তাহলে মূল্য দাও!”
◆ ২. গ্রহণ শুরু
হঠাৎ আকাশে
চাঁদের ওপর কালো ছায়া নামল।
পূর্ণ গ্রহণ।
ইরার শরীর থেকে আলো বের হতে লাগল—
অসহ্য উজ্জ্বল।
মায়ার ছায়া জেগে উঠল—
অসহ্য অন্ধকার।
পূর্ণ ছায়া হাত তুলল—
— “আলো আর ছায়া আলাদা করো!”
মায়া সামনে দাঁড়াল।
— “ওকে ছুঁবে না।”
ছায়ারা একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
মায়া যুদ্ধ করল—
তার ছায়া ছিঁড়ে যাচ্ছে,
রক্ত নামছে।
ইরা চিৎকার করল—
— “মায়া!!”
পূর্ণ ছায়া এগিয়ে এসে
ইরার কাঁধে হাত রাখল।
— “এটাই শেষ সুযোগ।”
ইরা চোখ বন্ধ করল।
তার ভেতরের আলো
আরো গভীর হলো।
— “আমি একা নই,”
সে শান্ত কণ্ঠে বলল।
“আমি ভালোবাসি।”
হঠাৎ ইরার বুক থেকে
একটা নতুন আলো বের হলো—
নরম, কিন্তু শক্ত।
ভালোবাসার আলো।
পূর্ণ ছায়া পিছিয়ে গেল।
— “এটা হতে পারে না…”
◆ ৩. মায়ার সিদ্ধান্ত
মায়া উঠে দাঁড়াল।
রক্তে ভেজা।
সে ইরার দিকে তাকাল।
— “ইরা…
এই যুদ্ধ শেষ করার একটাই রাস্তা আছে।”
ইরা বুঝে গেল।
— “না।”
মায়া হেসে উঠল।
— “আমি অর্ধ-ছায়া।
আমার অস্তিত্বই নিয়ম ভাঙা।”
সে পূর্ণ ছায়ার দিকে ফিরল।
— “আমাকে নে।
ওকে ছেড়ে দে।”
ইরা চিৎকার করে উঠল—
— “মায়া, না!”
পূর্ণ ছায়া থামল।
— “তুমি প্রস্তুত?”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “আমি জন্ম থেকেই প্রস্তুত ছিলাম।”
সে ইরার দিকে তাকাল শেষবার।
— “আমাকে মনে রাখিস।”
ইরা দৌড়ে এসে
মায়াকে জড়িয়ে ধরল।
— “আমি তোমাকে ছাড়ব না!”
ইরার আলো বিস্ফোরিত হলো।
মায়ার ছায়ার সাথে মিশে গেল।
একটা ভয়ঙ্কর শব্দ—
আলো আর অন্ধকার একসাথে ভেঙে পড়ল।
◆ ৪. নীরবতা
সব থেমে গেল।
ছায়া পরিষদ নেই।
পূর্ণ ছায়া নেই।
ঘরে শুধু নীরবতা।
ইরা মেঝেতে পড়ে আছে।
— “মায়া…?”
কোনো উত্তর নেই।
হঠাৎ তার সামনে
একটা পরিচিত ছায়া পড়ে।
মায়া দাঁড়িয়ে।
মানুষের মতো।
চোখে কোনো অন্ধকার নেই।
ইরা কাঁপতে কাঁপতে উঠল।
— “তুমি…?”
মায়া ধীরে বলল—
— “আমি মুক্ত।”
ইরা কেঁদে উঠল।
— “আমরা পেরেছি?”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “হ্যাঁ।
কিন্তু মূল্য দিয়ে।”
ইরা জিজ্ঞেস করল—
— “কী মূল্য?”
মায়া তার বুকের দিকে তাকাল।
— “আমার ছায়া হারিয়েছি।”
ইরা তার মুখ ধরে বলল—
— “তুমি বেঁচে আছো।
এইটাই যথেষ্ট।”
মায়া ফিসফিস করল—
— “আর তুই?”
◆ ৫. শেষ ইঙ্গিত
ইরা হালকা হাসল।
— “আমি আলো ছিলাম।
এখন শুধু মানুষ।”
বাইরে প্রথম আলো ফুটছে।
চাঁদ আবার দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু দূরে কোথাও
একটা ফিসফিস—
— “শেষ সবসময় শেষ হয় না…”
ইরা আর মায়া
হাত ধরে দাঁড়িয়ে।
ভালোবাসা জিতেছে।
কিন্তু অন্ধকার?
সে শুধু ঘুমোচ্ছে।