I found you on the wrong path. in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 20

Featured Books
  • Her Silent Secret - 15

    शहर में उस रहस्यमय साइको किलर का नाम पिछले चार सालों से लोगो...

  • पुराने मित्र

    पुराने मित्र लेखक: विजय शर्मा एरी (Vijay Sharma Erry)समय बीत...

  • पिंकू की परी - 3

    अम्मा की तोरई और स्पेसशिप का गियर'सूं-सूं... खटर-पटर...&...

  • सावन

    सावन की दोपहर लगभग आधी खत्म हो चुकी थी और ढलते सूरज की सुन्ह...

  • पवित्र प्रेम या अभिशाप Season 2 - 22

    शाम का समय था। चौहान हवेली का मुख्य दरवाज़ा खुला।शादी से लौट...

Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 20

আগুন ছুঁলে পুড়ে যায়

বৃষ্টি নামল হঠাৎ।
যেন আকাশটা আর চুপ করে থাকতে পারল না।
ইরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কাচে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে—
ঠিক যেমন তার ভেতরের অস্থিরতা।
গত রাতের বাজের শব্দটা এখনো কানে বাজে।
মায়ার কথাগুলোও।
“আমি কতটা দূর যেতে পারি—ওরা জানে না।”
এই বাক্যটা ভালোবাসার মতো শোনায়নি।
এটা ছিল সতর্কবার্তা।
দরজার দিকে তাকাতেই মায়াকে দেখা গেল।
সে ভিজে এসেছে—চুল থেকে পানি পড়ছে, চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।
“তুমি বেরিয়েছিলে?” ইরা জিজ্ঞেস করল।
মায়া মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ। কিছু নিশ্চিত করতে।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
“কি?”
মায়া কোটটা খুলে চেয়ারে রাখল।
একটু থেমে বলল,
“ও মেয়েটা শুধু তোমার অতীত না।
ও এখনো তোমাকে নিজের ভাবছে।”
এই কথায় ঘরটা ভারী হয়ে গেল।
ইরা চুপ করে রইল।
তার ভেতরে রাগ উঠল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি উঠল—ভয়।
“আমি কিছু করিনি,” ইরা বলল।
“আমি শুধু কথা বলেছি।”
“আমি জানি,” মায়া শান্ত গলায় বলল।
“এই জন্যই আমি চিন্তিত।”
ইরা তাকাল।
“চিন্তিত কেন?”
মায়া তার দিকে এগিয়ে এল।
চোখে এবার কোনো কোমলতা নেই—
আছে আগুন।
“কারণ কিছু মানুষ কথায় থামে না,” মায়া বলল।
“ওরা অধিকার চায়।”
এই শব্দটা—অধিকার—
ইরার শরীর ঠান্ডা করে দিল।
“তুমি কি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাও?”
ইরা হঠাৎ প্রশ্ন করে বসল।
মায়া থমকে গেল।
এই প্রশ্নটা সে আশা করেনি।
“না,” সে ধীরে বলল।
“আমি তোমাকে রক্ষা করতে চাই।”
“দুটোর মধ্যে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম,”
ইরা ফিসফিস করে বলল।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, ভেতরে দ্বন্দ্ব।
মায়া গভীর শ্বাস নিল।
“শোনো,” সে বলল,
“আমি যদি আগুন হই—
তাহলে তোমাকে পুড়িয়ে মারার জন্য না।
আলো দেওয়ার জন্য।”
ইরা চোখ বন্ধ করল।
এই ভালোবাসা নিরাপদ নয়—সে জানে।
কিন্তু মিথ্যাও নয়।
“আমি পালাব না,” ইরা বলল।
“কিন্তু তুমি যদি আমার হয়ে যুদ্ধ করো—
আমাকে পাশে রেখেই করো।”
মায়া ধীরে মাথা নাড়ল।
“এটাই আমি চাই।”
সেদিন রাতে তারা পাশাপাশি শুয়ে পড়ল।
কিন্তু ঘুম এল না।
ইরা অনুভব করছিল—
এই আগুন একবার ছুঁলে আর ফেরা যাবে না।
ভোরের দিকে ফোন বেজে উঠল।
একটা অচেনা নাম।
মায়া ফোনটা ধরল।
এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর শুধু বলল,
“ভুল করছ।”
লাইন কেটে গেল।
মায়া ফোনটা নামিয়ে রাখল।
ইরা তাকিয়ে ছিল।
“কে ছিল?” সে জিজ্ঞেস করল।
মায়া তাকাল তার চোখে।
“যে আগুন নিয়ে খেলতে এসেছে।”
ইরা বুঝে গেল—
এখন আর শুধু আবেগের গল্প নেই।
এখন শুরু হয়েছে সংঘর্ষ।
বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে।
কিন্তু ঝড়টা—
এখনো আসেনি।
 ভুল পথে পেলাম তোমাকে – Part 25
“অধিকার না ভালোবাসা”
ভোরের আলো ঠিকভাবে ঢুকতে পারেনি ঘরে।
মেঘে ঢাকা আকাশ, যেন সূর্য নিজেও সিদ্ধান্তহীন।
ইরা বিছানায় বসে ছিল।
মায়া জানালার ধারে দাঁড়িয়ে—চুপচাপ, শক্ত।
গত রাতের ফোনটা দু’জনের মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে।
ইরা প্রথম নীরবতা ভাঙল।
— “ও কি আবার আসবে?”
মায়া মুখ না ঘুরিয়েই বলল—
— “আসবে।”
এই এক শব্দেই ইরার বুক ভারী হয়ে গেল।
— “ও কে, মায়া?”
— “আমার অতীত,” মায়া ধীরে বলল।
— “আর তোর ভবিষ্যতের জন্য বিপদ।”
ইরা উঠে দাঁড়াল।
— “আমার ভবিষ্যৎ আমি ঠিক করব।”
মায়া এবার ঘুরে তাকাল।
চোখে রাগ নেই—আছে ভয়।
— “সব যুদ্ধ নিজের হাতে নেওয়া যায় না, ইরা।”
ইরা কাছে এগিয়ে এল।
— “কিন্তু আমার হয়ে সিদ্ধান্ত তুমি নিতে পারো না।”
এই কথাটা মায়ার ভেতরে কোথাও আঘাত করল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে বলল—
— “আমি তোর মালিক হতে চাই না।”
একটু থেমে,
— “কিন্তু তোকে হারাতে চাই না।”
ইরার চোখ নরম হলো।
— “ভালোবাসা যদি শ্বাসরোধ করে—
তাহলে সেটা ভালোবাসা না।”
মায়া মাথা নিচু করল।
— “আমি জানি।
এই জন্যই ভয় পাই।”
হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
দু’জনেই থমকে গেল।
মায়া এক পা এগিয়ে ইরার সামনে দাঁড়াল।
— “পিছনে থাক।”
ইরা তার হাত ধরল।
— “না।
এটা আমারও যুদ্ধ।”
দরজা খুলতেই দাঁড়িয়ে ছিল এক মেয়ে।
চেনা মুখ।
চেনা চোখ।
রিয়া।
তার ঠোঁটে হালকা হাসি।
— “অনেকদিন পর, ইরা।”
ইরার শরীর শক্ত হয়ে গেল।
— “তুমি এখানে কেন?”
রিয়া চোখ ঘুরিয়ে মায়ার দিকে তাকাল।
— “এইটাই কি সে?”
হাসিটা এবার তীক্ষ্ণ।
— “যার জন্য তুমি আমাকে ছেড়েছিলে?”
মায়ার চোখ অন্ধকার হয়ে উঠল।
— “তুমি এখানে স্বাগত নও।”
রিয়া হাসল।
— “দেখো, কথা বলছেও ওর হয়ে।”
ইরা এগিয়ে এল।
— “রিয়া, যা বলার আমাকে বলো।”
রিয়া ধীরে ধীরে কাছে এল।
— “আমি শুধু জানতে এসেছি—
তুমি কি এখন সুখী?”
ইরা দৃঢ় গলায় বলল—
— “হ্যাঁ।”
এই উত্তরটা রিয়ার মুখের হাসি একটু ভেঙে দিল।
— “সুখ,” সে ফিসফিস করল,
— “এই মেয়েটার সঙ্গে?”
মায়া এবার আর চুপ থাকল না।
— “তুমি সীমা ছাড়াচ্ছ।”
রিয়া তাকাল তার চোখে।
— “সীমা?”
হেসে বলল,
— “আমি তো ওকে ভালোবেসেছিলাম।”
ইরা শান্ত কিন্তু শক্ত গলায় বলল—
— “ভালোবাসা আর অধিকার এক জিনিস না।”
রিয়া চুপ করল।
তার চোখে এবার রাগ।
— “তাহলে দেখা যাক,” সে বলল,
— “কে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।”
সে ঘুরে চলে গেল।
দরজা বন্ধ হতেই ইরার পা কেঁপে উঠল।
মায়া ধরে ফেলল।
— “আমি আছি।”
ইরা মাথা ঠেকাল তার বুকে।
— “আমি ভয় পাচ্ছি।”
মায়া ফিসফিস করে বলল—
— “ভয় পেলেও পালাবি না।
এইটাই আমাদের পার্থক্য।”
দু’জনের হাত শক্ত হয়ে জড়িয়ে গেল।
বাইরে আবার মেঘ জমছে।
এই যুদ্ধ এখন আর শুধু ছায়া আর আলোর না—
এটা মানুষের মনের।
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধ—
যেখানে ভালোবাসা আর অধিকার মুখোমুখি দাঁড়ায়।